হে বাসুদেব! তোমাকে প্রণাম!
- নীলাঞ্জনা ভৌমিক
শরৎকালের মাঝামাঝি কার্তিক মাসে ব্রজবাসিগন বজ্র ও বিদ্যুতের দেবতা স্বর্গরাজ্যের অধিপতি ইন্দ্রের পূজার আয়োজন করে থাকেন। এই প্রথা অনুযায়ী বৃন্দাবন ও বরসানাবাসীগন ইন্দ্রপূজার আয়োজন করে গোবর্ধন পর্বতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।এই পূজার পৌরোহিত্য করেন আয়ন ঘোষের পিতা ও জটিলার স্বামী উগ্রপথ।উগ্রপথ ইন্দ্রের অন্ধভক্ত ছিলেন। তিনি ইন্দ্রকে শুধুমাত্র ভক্তি সহকারে পূজা করতেন তা নয়,ভয়ও পেতেন।বৃন্দাবনবাসী ও বরসানাবাসী পূজা উপাচার সাজিয়ে নিয়ে গোবর্ধন পর্বতে উপস্থিত হন ইন্দ্রের পূজার উদ্দেশ্যে । উগ্রপথ ইন্দ্রকে সন্তুষ্ট করার জন্যে এক ছাগশিশু বলী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শ্রীকৃষ্ণ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।তিনি নিরীহ নির্দোষ প্রাণীর বলীর বিরোধী ছিলেন ।তিনি এই বলীদানে বাঁধা দিতে গেলে পুরোহিত উগ্রপথ অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তখন শ্রীকৃষ্ণ পূজায় অংশ গ্রহণ-কারীদের উদ্দেশ্যে বলেন ---------
- " দেবতা প্রাণীকে রক্ষা করেন কিন্তু এ কেমন দেবতা যে এক নিরীহ নির্দোষ পশুর বলীতে খুশী হন! ভক্তির আধার প্রেম ,ভয় নয়। প্রেম দিয়ে দুঃখ ভাগ করে নেওয়া যায় কিন্তু কারুর ব্যক্তিগত দূঃখকে দূর করার জন্য কাউকে হত্যা করা উচিত নয়। ভক্তির আধার যদি ভয় হয় সেখানে ভক্তি বাস করে না আর যে দেবতাকে প্রসন্ন করতে কোন নির্দোষ প্রাণীর প্রাণ যায় সে দেবতা প্রসন্ন করার যোগ্য নয়। ভগবান কে ? - দাতা , যিনি দান করেন কিন্তু যিনি জীবন দেওয়ার জায়গায় প্রাণ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন,যাঁর দাবীর কারণে ভক্তের ধর্ম ও কর্মের শুদ্ধতা নষ্ট হয় এমন দেবতাকে পূজা না করে তাকে ত্যাগ করাই উচিত।
এখানে উপস্থিত যত মাতা আছেন তাদের কাছে আমার একটাই প্রশ্ন যদি কোন মাতার সামনে তার সন্তানকে বলী দেওয়া হয় তবে সেই মাতার অন্তরের কি অবস্থা হয় ? এখানে আমরা সবাই বেঁচে থাকতেই এসেছি, জীবন ধারন করার ইচ্ছা সবার আছে তবে কার অধিকার আছে এই দুগ্ধ পোষ্য ছাগশিশুর জীবন ছিনিয়ে নেওয়ার ? কে আমাদের অধিকার দিয়েছে এক মাতার থেকে তার নিরীহ শিশুটিকে ছিনিয়ে নেওয়ার? এখনও কি আপনারা মনে করেন এই নির্দোষ প্রাণীর বলি দেওয়া কি উচিত ? " শ্রীকৃষ্ণের এই কথায় উক্ত স্থানে উপস্থিত সব পূজারীগণ সহমত পোষণ করেন। এরপর তিনি আহ্বান জানান,
" আপনিও এই পক্ষে আসুন উগ্রপথকাকা ! ত্যাগ করুণ এমন দেবতাকে যিনি আপনাকে দিয়ে এত পাপ করিয়েছেন ?"
" আমার পূর্বজ আরাধ্য কে ত্যাগ করবো ? তবে কাকে আমার আরাধ্য মানবো ? কার পূজা করবো আমি ?"
তখন শ্রীকৃষ্ণ বলেন, " এই গোবর্ধন পর্বতকে ? এই পর্বত আমাদের ছায়া দিয়েছে, শুদ্ধ বায়ু , জল দিয়েছে, পশু চরানোর স্থান দিয়েছে --- মানুষের সুবিধার্থে কি দেয় নি সে ? যার কারণে আমরা দুধ,ঘী,মাখন আরও কতো খাদ্যের স্বাদ গ্রহণ করতে পারছি ,যার কারণে আমরা অন্ন প্রাপ্ত হই,এর কিছু সময় পরেই বর্ষা নামবে তবে ইন্দ্রকে পূজা করার কি প্রয়োজন ? বর্ষা করানো ইন্দ্রের ধর্ম, বলী হোক বা নাই হোক।আপনি যে পূর্বজর কথা বলছেন তিনি নিজেও এই গোবর্ধন পর্বতের অন্ন,জল গ্রহণ করেছেন? তথাপি এর পূজার কি প্রয়োজন আর এই
রকম পূজা যে পূজায় বলি দিতে হয়!
" পর্বত ভগবান নয়, ওর পূজা হয় না ? ওর প্রসাদ গ্রহণ করে না "
" যদি মনে শুদ্ধতা থাকে তো কোন কিছুই অসম্ভব নয়। যদি পর্বত প্রসাদ গ্রহণ করে তবে ?"
" যদি এই পর্বত প্রসাদ গ্রহণ করে তবে আমি পশুর ই ভুলে যাবো। আর প্রসাদ গ্রহণ যদি না করে তবে পশুবলী থেকে আমাকে কেউ আটকাতে পারবেনা!"
" যা আপনার ইচ্ছা "
" পাথর কখনো ভগবান হয় না!! "
পুরোহিত উগ্রপথ ও শ্রীকৃষ্ণের এই কথোপকথনের পর উপস্থিত সকল পূজারীগণ শ্রীকৃষ্ণের পক্ষ অবলম্বন করেন এবং সবাই অনুরোধ করেন -
" দেখো কৃষ্ণ এই নিরীহ প্রাণীগুলোর যেন প্রাণ না যায় "
তখন শ্রীকৃষ্ণ সবাইকে আত্মস্থ করে বলেন যে
" যাকে তুমি শুদ্ধ প্রেম করো তার উপর ভরসা আছে তো ? পরে মনে হবে না তো সে তোমাকে প্রেম করে না ?"
" না কখনো না "
" যার উপর তোমাদের অকুন্ঠ বিশ্বাস আছে,অনন্ত প্রেম আছে দেখ তা যেন কখনো হারিয়ে বা ভেঙ্গে না যায় " । অন্ধ শ্রদ্ধার নিবৃত্ত করে প্রকৃত প্রেম স্থাপন করাই ধর্ম।"
গোবর্ধন পর্বতে বৃন্দাবন ও বরসানাবাসীগন কর্তৃক নিবেদিত প্রসাদ স্বয়ং নারায়ণ গ্রহণ করেন।
এই ঘটনা থেকে প্রকৃত ভগবত্ প্রেমের এক বাস্তব সম্মত বোধ উপলব্ধি হয় যে প্রকৃত ভক্তির আধারই হচ্ছে প্রেম। যে পূজায় প্রকৃত প্রেম নেই ভক্তি নেই সেই পূজার কোন অর্থ নেই।
শ্রীকৃষ্ণ ও কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একই চিন্তাধারার পথিক ছিলেন ---
সংসার যবে মন কেড়ে লয়, জাগে না যখন প্রাণ,
তখনও,হে নাথ,প্রণমী তোমায় গাহি বসে তব গান।
অন্তরযামী ক্ষমা সে আমার শূণ্য মনের বৃথা উপহার-
পুষ্পবিহীণ পূজা- আয়োজন ভক্তিবিহীন তান।।
ডাকি তব নাম শুষ্ক কন্ঠে আশাকরি প্রাণপণে -
নিবিড় প্রেমের সহসা বরষা যদি নেমে আসে প্রাণে।
সহসা একদা আপনা হইতে ভরি দিবে তুমি তোমার অমৃতে
এই ভরসায় করি পদতলে শূণ্য হৃদয় দান।।
অমরতা
- নজর উল ইসলাম
গানের নদীর মেঘলোকে সহাস্য হয়ে ওঠে
হাসিখুশি মিলিয়ে যায় অসহ ঋতুচক্রের কায়দায়
সব যে কাহিনীমালার আলোছায়া সম্বলিত চেহারা
দিবানিশি খেলা করে ছায়াবীথির ওপর
গূঢ় সাঁতারেও চৌচির সমগ্র দেহঘর
ছেঁড়া ছেঁড়া পৃথিবী জুড়ে নিমগ্ন দস্তুরমতো
বিষাদও কেঁপে ওঠে একচাদরে জোছনার দেশ
প্রেম বিকোয় প্রতিটি যুগল-চিহ্নে
ব্রহ্মা হেসে খুন, কোথায় অমরতা
পালিশ গলায় যে সব দোয়েল শিষ দেয়
আকুল মুগ্ধতায় আশরীর ঝুঁকে আসে
নির্জলা শুদ্ধতা ঠুকরে সুলগ্ন ছাইপাখি বেরিয়ে আসে...
কুরআন
- সকিনা খাতুন
কুরআন হল মুসলমানদের প্রধান একক পবিত্র গ্ৰন্থ।
নবীর বয়স যখন হল- চল্লিশ বছর,
গ্যাব্রিয়েলের মাধ্যমে ইসলামে কুরআন পেলো আসন।
আল্লাহর বানী লিখিত সব কুরআনের পাতায়।
পড়লে মানুষ লিখবেন আল্লাহ নেকির খাতায়।
নবীর প্রেমে মুগ্ধ হয়ে,
সাহাবীরা নিল কুরআন বুকে তুলে।
সংরক্ষনের মন্ত্রজালে কুরআন স্থান পেলো, মানব পৃথিবীর কোলে।
চন্দ্রযান~৩
- এস.কে.আরসাদ.আলি
একবিংশ শতাব্দীর এক সন্ধ্যায়
যখন স্মার্টফোন হাতে নিয়ে ফ্লাস্কের গরম চা
খেতে খেতে মাঝে মাঝে আকাশের মিটিমিটি
তারা দের দিকে তাকায় এবং ভাবি
আজ আমরা কত উপরে।
না আমি ছাদে আছি, এই কথা টা বলছি না।
ভারত থেকে সদ্য বিদায় নেওয়া তৃতীয় চন্দ্রযান
এখনো চাঁদের উদ্দেশে পাড়ি দিচ্ছে।
ভারতের মহাকাশ গবেষণা আজ আর আঁতুরঘরে নেই ,
মঙ্গল পাড়ি দিয়ে বিশ্বের মধ্যে
অনন্য শিরোপা গ্রহণ করেছে ।
শুধু আমার দেশ নয় , ......
• হস্ত চিত্র শিল্প •
অঙ্কনে: অর্ঘ্য শুর রায়
আমলাপাড়া,বনগাঁ।
© All Rights Reserve To শৈল্পিক সম্প্রচার
শৈল্পিক সম্প্রচার https://www.facebook.com/ArtisticBroadcasting

