ময়না পাখি | রেজাউল করিম রোমেল
আমার বাড়ির ময়না পাখি
কত কথা বলেরে,
এদিক সেদিক উড়ে গিয়ে
মিষ্টি গান গায়রে।
মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে
আমার মনটা ভুলায়,
ধরতে গেলে উড়াল দিয়ে
কোথায় যেন যায়।
ময়না পাখি ময়না পাখি
তোমায় ভালোবাসি,
তোমার গান শুনলে পরে
মুখে থাকে হাসি।
অসহায় রামুকাকা | সনথ রায়
সেদিন রামু কাকাকে রাস্তায় পেয়ে জিজ্ঞাসা করলাম কেনো উনি নিজের বাড়ী ছেড়ে পাগলের মতো রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ান । উনি আশ্চর্যজনকভাবে উত্তর দিয়ে বললেন "হাতে চুরি লাগুক বা চুরিতে হাত, সবসময় হাত ই কাঠবে, পরিবারের কেউই আমাকে সহ্য করতে পারে না । পরিবারের যেকেউ দুষ করুক না কেনো সবসময় আমার উপরেই দুষ এসে পরে কিন্তু আমার পরিবার ছেড়ে আসা ঠিক হয়নি কিন্তু কি করবো পরিস্থিতিটাই এরকম আমাকে বিমুর করেছে । এখন হয়তো আর কোনোদিন বাড়ী ফেরা হবে না । সারাজীবন হয়তো রাস্তায় রাস্তায় কাঠাতে হবে" ।পরের প্রশ্ন রূপে ওনাকে জিজ্ঞাসা করলাম ''পরিবারের লোকেরা কি কোনোদিন আপনার খুঁজখবর নেয়নি নাকি '' ? ওনি উত্তরে কেঁদে কেঁদে বললেন " *না*" । আরও বললেন " এই দিনটা দেখার জন্যই হয়তো খেটে খুঁটে মাতার ঘাম পায়ে ফেলে পরিবারটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছি । আর ওরা দেখতে আসবে দূরের কথা হয়তো ওরা জানেও না আমি বেচেঁ আছি নাকি মরে গেছি" ।
আর জানো বাবা ছেলে মেয়েদের কোনোদিন খালি পায়ে স্কুলে যেতে দেইনি । নিজে ছেড়া কাপড় পরে সারাদিন পরিশ্রম করে যতটুকু সম্ভব আমি করেছি, ওদের শিক্ষিত করে তুলেছি । এখন ছেলেটি সরকারি চাকরি করে শুনলাম । মেয়েটির লেখাপড়ার শেষ বর্ষ । জানো বাবা ওদের দেখার জন্য কয়েকবার গিয়েছিলাম বাড়িতে কিন্তু ওরা অচেনার মত অভিনয় করে দরজা বন্ধ করে দেয় ।
কথাগুলো বলতে বলতে চিৎকার করে কাদতে লাগলেন । ওনার কান্না কোনো সাধারণ কান্না নয়, স্নেহ মায়া-মমতায় জড়ানো সেই মায়াময়ী কষ্টেই কান্না এটা । তারপর ওনি আমাকে অনুরোধ করে বললেন "বাবা কয়েকটা পয়সা দেবে অনেক খিদে পেয়েছে কিছু খাবো" । রামু কাকার কথাগুলো শুনার পর আর কোনো প্রশ্ন করতে পারি না । ওনার কান্না দেখে আমার চোখে ও জল এসে গেছিলো । মনে মনে ভাবলাম এটাই হয়তো কারণ যে রাস্তায় এতো পাগল দেখা যায় এবং দেশে এতো বৃদ্ধাশ্রম ।
ভগবানের কৃপায় পৃথিবীর কোনো বাবা যেনো এই পরিস্থিতির স্বীকার না হন । রামু কাকাকে সান্তনা দেওয়ার প্রয়াস করে বললাম " চিন্তা করোনা কাকা দেখবে একদিন সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে । দেখবে তারাও একদিন নিজের ভুলের শাস্তি পাবে, আর নিজের ভুল বুঝতে পারবে । এই বলে কাকার হাতে 200 টাকা ধরিয়ে দিয়ে সেখান থেকে চলে এলাম আর কোনো প্রশ্ন করার সাহস পেলাম না ।
কর্মাঙ্গণে নামো হে চাড়াল!|পাভেল রহমান
সৎ দের সাথে মিলায়ে তালকর্মাঙ্গনে নামো হে চাড়াল!
চাড়াল বলে তোমার কপাল
মন্দ কেন হবে?
কর্মের দ্বারা খোলো ভাগ্য, বিস্মিত হবে সবে।
প্রকাশ | সুশান্ত সেন
একটা প্রকাশ একটা সুখএকটা হাসি মুখ।
পাশে কেউ নেই
' সেই ' !!
ভাষার খোঁজ, জনতা রাখে না
কাছে ডাকে না।
তোমাকেই স্মরি
পাতা , উঠিছে মর্মরী।
![]() |
| নীলগাই - সুশান্ত সেন |
কথা | অজিত কুমার জানা
কথা দিয়েই সব হয়,কথার মানচিত্রে ভিন্ন ভূমিরূপ।
কথা ঝর্ণা হলে,
সুর বাঁধে শিল্পী।
সঙ্গীত ডানা মেলে,
ভাঙে যার ঘর,
সেই জানে কথার কদর।
কথা তীর হলে,
শুরু হয় কুরুক্ষেত্র।
কেউ রাখে না হিসাব-
কার কত ক্ষয়ক্ষতি ?
কথায় ফুল ফুটে,
কথায় পাখি উড়ে,
কথায় বৃষ্টি হয়।
এসো পজেটিভ কথার বীজ বুনি,
ফুলে ফুলে ভরুক বাগান।
বাবার সংজ্ঞা | সুমিতা চৌধুরী
একটা বিশ্বাসের আঙুল,জাগায় প্রথম পথ চলার সাহস ।
বাবা মানে এক বুক প্রশ্রয়-ভরসা,
আবেগ-অনুভূতির মিঠে পরশ।
শৈশবের প্রথম কৌতুহলের উত্তর,
এক অবারিত জীবনের দ্বার,
মনের মাঝে জেগে ওঠা,
এক প্রকৃত পুরুষ সত্তার আধার।
বাবা মানে মান-অভিমান,
অভিযোগের নিশ্চিন্ত ঠিকানা।
বাবার মাঝেই খুঁজে পাওয়া,
সকল আবদারের সুখী বাসাখানা।
বাবা মানে খোলা আকাশে
দুরন্ত ঘুড়িদের উড়ান,
খেলাচ্ছলে জীবনের পাঠ,
প্রকৃতির মাঝে হারানোর কলতান।
বাবা হলো আদর্শ শিক্ষক,
জীবনের প্রথম পথ প্রদর্শক।
ভালোবাসার এক চিরসবুজ ভাণ্ডার,
শাসন আগলের সীমানায় সদর্থক।
পিঠে রাখা ঐ আলতো হাতে
পৌঢ়ত্বেও কাটে সকল চিন্তার ভার,
নিরুচ্চারে বলা কথার মাঝেই,
মন আত্মবিশ্বাস পায় অপার।।
আমার গ্রাম | তপন মাইতি
ফিরে এসেছি এই গ্রামেযে গ্রামের পাশে বয়ে গেছে ঠাকুরাণ
চোদ্দ পুরুষের চেনা
ছেলেবেলায় দঙ্গল বেঁধে নদী সাতাঁর
কেওড়া পাড়ার প্রতিযোগিতা
ডিঙি নৌকায় টিমটিমি আলোয় মাছ বাছার মত।
ছেড়ে গেলে মনে পড়ে
আবার ফিরে এলে ফিরে যেতে ইচ্ছে করে
লাল সবুজ জন্ম ভিটের টান
ফিরে আসলে নিয়ে যেও
বৃষ্টি জলে ভিজে যাওয়ার পর
উজ্জ্বল রৌদ্রমাখা সুন্দরী পাতার সৌন্দর্য
আর কিছু নোনামাছ নিয়ে যেও সাথে
চিনে নাও অল্প দিনে সুন্দরবন
যেভাবে চোরাবালি চরে মিশে থাকে লবনাক্ত ঘ্রাণ
শ্বাসমূল ম্যানগ্রোভ জীবন।
শোনো দেবীপুর, আমি
এক্ষুণি ছেড়ে যেতে চাই না
তুমি নিশ্চয়ই জানো আমার ঠিকুচি কুষ্টি
কতবার বানের জলে ভেসেছি...
আমার সবকিছু নথিপত্র তোমার পড়া
আমার কাছে এখনো আছে
দেখাতে পারি বাঘে খাওয়া হাত
বিষধর সাপের ছোবলে
প্রিয় দাদিমার শশ্মান যাত্রা...
ফিরে এসেছি এই গ্রামে ভালোবেসে
এখন কিন্তু ঘরে ঘরে ইলেকট্রিক পৌঁছে গেছে।

